ধূসর রোদ্দুর
শহরের অভিজাত ফ্ল্যাটের ডিনার টেবিলে পিনপতন নীরবতা। আবির তার প্লেটে রাখা ফ্রাইড রাইস নাড়াচাড়া করছে, আর মেঘনা জানালার ওপাশে শহরের নিয়ন আলোর দিকে তাকিয়ে আছে। বিয়ের দশ বছর। আবির এখন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কান্ট্রি হেড, ব্যস্ততা তার ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মেঘনা এই বিলাসবহুল খাঁচার এক নিঃসঙ্গ বন্দিনী।
"আবির, আমাদের কি একটু কথা বলা যায়?" মেঘনা খুব নিচু স্বরে বলল। আবির ঘড়ি দেখল। "দশ মিনিট সময় আছে। কাল সিঙ্গাপুর ফ্লাইট, প্যাকিং বাকি।"
মেঘনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই দশ মিনিটের জীবনে সে আর নিজেকে খুঁজে পায় না। আবির যখন চলে গেল, মেঘনা তার ল্যাপটপটা খুলল। গত কয়েক মাস ধরে সে একটি অনলাইন আর্ট গ্রুপে সময় কাটায়। সেখানেই তার পরিচয় হয়েছিল 'অর্ক'র সাথে। অর্ক তার চেয়ে বয়সে ছোট, কিন্তু মেঘনার মনের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস সে যেন দূর থেকে শুনতে পায়।
রাত তখন একটা। আবির পাশের ঘরে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। মেঘনার ফোনে মেসেজ এল— "এখনও জেগে আছো মেঘ? নীল শাড়িটা পরলে তোমায় ঠিক ওই মেঘলা আকাশের মতোই রহস্যময়ী লাগে।" মেসেজটি অর্কর। মেঘনা জানে এটি ভুল। সে বিবাহিত, তার একটি সংসার আছে। কিন্তু আবিরের অবহেলা তাকে এমন এক খাদের কিনারে নিয়ে এসেছে যেখানে অর্কর সস্তা প্রশংসাও অমৃতের মতো শোনায়।
সেদিন রাতে মেঘনা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখল। দশ বছরে তার রূপ কমেনি, কিন্তু প্রশংসা করার মানুষটি হারিয়ে গেছে। সে অর্ক কে রিপ্লাই দিল, "আবির বাসায় থাকলে আমার নিজেকে খুব একা মনে হয় অর্ক।" ওপাশ থেকে উত্তর এল, "আবির তোমাকে চেনে না মেঘ। আমি তোমাকে চিনি। কাল দুপুরে দেখা হবে?"
মেঘনা খুব ভয়ে ভয়ে বনানীর এক নিরিবিলি কফিশপে গেল। অর্ক আগে থেকেই বসে ছিল। নীল টি-শার্ট আর জিন্সে অর্ককে খুব সজীব লাগছে। মেঘনাকে দেখে সে এক চিলতে হাসল। "তুমি বাস্তবে আরও বেশি মায়াবী," অর্ক মেঘনার হাতটা টেবিলের ওপর নিজের হাতের মুঠোয় নিল।
মেঘনা হাতটা সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু অর্কর হাতের উষ্ণতা তাকে দুর্বল করে দিল। সে দুপুরে আবিরের কথা একবারও মনে করল না। তাদের আলাপ গড়িয়ে চলল। অর্ক মেঘনার জীবনের সেই শূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে চাইল যা আবির টাকার পাহাড় দিয়েও পারেনি।
আবির সিঙ্গাপুর যাওয়ার পর মেঘনা নিজেকে আর আটকে রাখতে পারল না। সে অর্ককে তার নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাল। বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় যখন পুরো শহর জলমগ্ন, তখন মেঘনা আর অর্ক আবিরের ড্রয়িংরুমে বসে দামী ওয়াইন আর মিউজিকের নেশায় বুঁদ।
অর্ক মেঘনার খুব কাছে এসে দাঁড়াল। "মেঘ, এই স্বাধীনতা তোমার প্রাপ্য ছিল।" মেঘনা জানত সে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিচ্ছে। অর্কর স্পর্শে এক ধরণের আদিম নেশা ছিল, যা তাকে তার নৈতিকতা ভুলিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই কলিং বেল বেজে উঠল।
আবির কি তবে ফিরে এল? নাকি অন্য কেউ?
মেঘনা কাঁপাকাঁপা হাতে দরজা খুলল। কিন্তু না, আবির নয়। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে আবিরের ছোট বোন, নীরা। নীরা এ শহরেই থাকে, মাঝে মাঝে না জানিয়েই চলে আসে।
"ভাবি, ফোন ধরছিলে না কেন? বৃষ্টির মধ্যে আটকা পড়ে ভাবলাম তোমার এখানেই রাতটা কাটিয়ে দিই," নীরা ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল। ড্রয়িংরুমে অর্ককে দেখে নীরা থমকে দাঁড়াল। মেঘনা দ্রুত মিথ্যা সাজাল, "নীরা, ইনি অর্ক। আমার কলেজের এক বড় ভাইয়ের বন্ধু, একটা আর্ট প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলতে এসেছেন।"
নীরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অর্কর দিকে তাকাল। টেবিলের ওপর অর্ধেক খালি ওয়াইনের গ্লাস আর ঘরের আবছা আলো অনেক কিছুই বলে দিচ্ছিল। নীরা শুধু ম্লান হেসে বলল, "ও আচ্ছা। তা কাজ শেষ হয়েছে? রাত তো অনেক হলো।" অর্ক অপ্রস্তুত হয়ে বিদায় নিল। কিন্তু যাওয়ার সময় মেঘনার চোখের সেই অসহায়তা সে মিস করল না।
অর্ক চলে যাওয়ার পর নীরা মেঘনার দিকে তাকিয়ে বলল, "ভাবি, আবির ভাই হয়তো কাজে পাগল, কিন্তু ও তোমাকে খুব বিশ্বাস করে। এই বিশ্বাসটা কাঁচের মতো, একবার ভাঙলে আর জোড়া লাগে না।" মেঘনা কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার সারা শরীর ঘামছে। সে বুঝতে পারল, নীরা সব বুঝে গেছে। সেই রাতে মেঘনার এক ফোঁটা ঘুম হলো না। একদিকে অর্কর সেই নেশাতুর স্পর্শের টান, অন্যদিকে সামাজিক সম্মানের ভয়।
আবির ফিরে এল দুদিন পর। কিন্তু সে এসেই আবার ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়ল। মেঘনা তার পাশে গিয়ে দাঁড়াল, তার চুলে বিলি কেটে দিতে চাইল। কিন্তু আবির বিরক্ত হয়ে বলল, "মেঘনা, দেখছ না প্রেজেন্টেশন বানাচ্ছি? ডিনারটা একা সেরে নাও তো।"
মেঘনার ভেতরের সেই দাউদাউ করে জ্বলা আগুনটা আবার দপ করে জ্বলে উঠল। সে বেডরুমে গিয়ে অর্ককে মেসেজ করল, "আমি আর পারছি না অর্ক। আবিরের কাছে আমি কেবল একটা আসবাবপত্র। কাল দুপুরে আমি তোমার ফ্ল্যাটে আসছি।"
পরদিন মেঘনা মিথ্যে বলে অর্কর ফ্ল্যাটে গেল। এটি ছিল শহরের এক কোণে ছোট একটা স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট। অর্ক দরজা খুলেই মেঘনাকে জাপটে ধরল। "আমি জানতাম তুমি আসবে মেঘ," অর্কর কণ্ঠে এক ধরণের বিজয়ের সুর।
সেই দুপুরে মেঘনা তার দশ বছরের বিবাহিত জীবনের সব শপথ ভুলে গেল। অর্কর বাহুপাশে সে এক ধরণের মিথ্যে স্বস্তি খুঁজে পেল। কিন্তু সে জানত না, অর্ক তাকে যতটা না ভালোবাসে, তার চেয়ে বেশি উপভোগ করছে আবিরের মতো একজন ক্ষমতাধর মানুষের স্ত্রীকে নিজের আয়ত্তে আনার আনন্দ।
কয়েক সপ্তাহ ধরে এই গোপন অভিসার চলতে থাকল। মেঘনা এখন ডাবল লাইফ লিড করছে। আবিরের সামনে সে আদর্শ স্ত্রী, আর আড়ালে সে অর্কর প্রেমিকা। কিন্তু একদিন মেঘনা খেয়াল করল অর্ক তার কাছে টাকা চাইছে। "একটা ক্যামেরা দরকার মেঘ, অনেক দামী। তুমি কি কিছু ব্যবস্থা করতে পারবে?"
মেঘনা অবাক হলো। সে তার গয়না বন্ধক রেখে অর্ককে টাকা দিল। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারল, অর্ক আসলে তাকে ব্যবহার করছে। কিন্তু এখন আর ফেরার পথ নেই। সে এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে।
আবির আসলে কিছুই জানত না তা নয়। সে মেঘনার ফোনের ব্যাকআপ আইপ্যাড থেকে সব মেসেজ অনেক আগেই পড়ে ফেলেছিল। কিন্তু সে চিৎকার করেনি, মেঘনাকে শাসন করেনি। সে শুধু নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল।
একদিন অফিস থেকে ফিরে আবির মেঘনার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিল। মেঘনা ভাবল হয়তো কোনো উপহার। কিন্তু খাম খুলতেই তার পৃথিবীটা দুলে উঠল। ভেতরে ডিভোর্স পেপার আর অর্কর সাথে তার কিছু অন্তরঙ্গ ছবি।
আবির শান্ত গলায় বলল, "আমি হয়তো তোমাকে সময় দিতে পারিনি মেঘনা, কিন্তু আমি তোমাকে কখনো অসম্মান করিনি। তুমি যা খুঁজছিলে তা যদি অর্কর কাছে পাও, তবে ওখানেই থাকো। এই ফ্ল্যাটটা আজই খালি করে দেবে।"
আবির চলে যাওয়ার পর মেঘনার মনে হলো বিশাল অট্টালিকাটা তাকে গিলে খেতে আসছে। সে দ্রুত অর্ককে ফোন করল। তার এখন একমাত্র আশ্রয় অর্ক। "অর্ক, আবির সব জেনে গেছে। আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি তোমার কাছে আসছি," মেঘনা কাঁদতে কাঁদতে বলল।
ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর অর্কের শীতল কণ্ঠস্বর ভেসে এল, "দেখো মেঘনা, আমি তোমাকে বলেছিলাম আমরা ইনজয় করব। কিন্তু তোমাকে আমার ফ্ল্যাটে সারা জীবনের জন্য তুলে নেব, এমন কোনো কথা তো হয়নি। আমার একটা ক্যারিয়ার আছে, ফ্যামিলি আছে। তুমি এখন আসলে আমার ঝামেলা বাড়বে।"
মেঘনার কানে নিজের হৃদপিণ্ড ভাঙার শব্দ স্পষ্ট শোনা গেল। "তুমি কী বলছ অর্ক? আমি তোমার জন্য আমার দশ বছরের সংসার, সম্মান সব বিসর্জন দিলাম!" অর্ক একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, "বিসর্জন তুমি তোমার নিজের ইচ্ছায় দিয়েছ মেঘনা। আর শোনো, ওই টাকাটা ফেরত চেয়ো না, ওটা তোমার সাথে কাটানো সময়গুলোর পারিশ্রমিক হিসেবে ধরে নাও।"
ফোনটা কেটে গেল। মেঘনা বুঝতে পারল, সে এক মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের সাজানো বাগানটা মরুভূমি বানিয়ে ফেলেছে।
রাত বারোটা। মেঘনা তার দুটি ব্যাগ নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে আছে। যে শহরে সে রাজকুমারীর মতো থাকত, আজ সেখানে তার এক ফোঁটা আশ্রয় নেই। সে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা ভাবল, কিন্তু তাদের সামনে মুখ দেখানোর মতো সাহস তার নেই।
সেদিন রাতে সে এক সস্তা হোটেলে আশ্রয় নিল। যে শরীর নিয়ে সে একদিন দম্ভ করত, আজ সেই শরীরটাই তার কাছে বোঝা মনে হচ্ছে। অর্কর স্পর্শগুলো এখন বিষের মতো মনে হচ্ছে। সে বারবার আবিরের সেই কথাটি মনে করছে— "আমি তোমাকে কখনো অসম্মান করিনি।"
পরের কয়েক মাস মেঘনার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময় ছিল। সে একটা ছোট মেসে উঠল এবং সামান্য বেতনে একটা বুটিক শপে কাজ শুরু করল। বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে বাসে যাতায়াত করা, নিজের কাপড় নিজে কাঁচা—সবই তাকে জীবনের কঠিন সত্যগুলো শেখাতে লাগল।
সে অর্কর আর কোনো খবর নেয়নি। লোকমুখে শুনেছে অর্ক অন্য এক ধনী নারীকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। মেঘনা হাসল। একসময় সেও তো এভাবেই ফাঁদে পা দিয়েছিল।
অর্ক ভেবেছিল মেঘনাকে সরিয়ে দিয়ে সে পার পেয়ে গেছে। সে এবার টার্গেট করল এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর স্ত্রী শায়লা-কে। শায়লাও মেঘনার মতোই একাকী ছিল, কিন্তু শায়লার স্বামী আবিরের মতো শান্ত ছিল না। সে ছিল শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে যুক্ত এক ভয়ংকর লোক।
অর্ক যখন শায়লার সাথে একটি হোটেলে গোপন অভিসারে ছিল, তখন সে জানত না যে শায়লার স্বামী তার পেছনে লোক লাগিয়েছে। হঠাৎ করে ঘরের দরজা ভেঙে চার-পাঁচজন লোক ভেতরে ঢুকল। অর্ক পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তাকে নির্মমভাবে পেটানো হলো।
অর্ককে শুধু মারা হলো না, তার সেই মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়া হলো যেটিতে সে মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করার ছবি আর ভিডিও রাখত। শায়লার স্বামী সেই ফোনের সমস্ত তথ্য পুলিশকে দিয়ে দিল। পুলিশ তদন্তে নেমে দেখল অর্ক শুধু পরকীয়া নয়, বরং ড্রাগ সাপ্লাই এবং নারী পাচারের সাথেও যুক্ত ছিল।
পরদিন খবরের কাগজের পাতায় বড় করে ছবি ছাপা হলো— "প্রতারক ও নারী পাচারকারী অর্ক গ্রেপ্তার।"
মেঘনা তখন তার ছোট বুটিক শপে বসে চা খাচ্ছিল। খবরটা দেখে তার বুক থেকে একটা বিশাল পাথর নেমে গেল। সে দেখল ছবিতে অর্কর সেই সুন্দর মুখটা এখন রক্তে আর কালশিটে দাগে বীভৎস হয়ে গেছে। যে শরীর আর রূপ নিয়ে সে দম্ভ করত, আজ পুলিশ ভ্যানে করে তাকে গারদের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অর্কর জেল হলো দীর্ঘ মেয়াদী। তার ক্যারিয়ার, সম্মান সব ধুলোয় মিশে গেল। জেলের ভেতরেই তাকে অন্যান্য কয়েদিদের লাঞ্ছনা সয়ে বাকি জীবন কাটাতে হবে।
মেঘনা বুঝতে পারল, প্রকৃতি কাউকেই ছেড়ে দেয় না। সে নিজে ভুলের মাশুল দিচ্ছে একাকীত্বের মাধ্যমে, আর অর্ক তার পাপের মাশুল দিচ্ছে অন্ধকার সেলে।
কয়েক মাস পর মেঘনা শুনতে পেল, অর্ক জেলে থাকাকালীন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। সে এখন সারাদিন দেয়ালে শুধু কাল্পনিক মেয়েদের ছবি আঁকে আর বিড়বিড় করে ক্ষমা চায়।
এক বছর পর। মেঘনা এখন নিজের একটা ছোট অনলাইন বিজনেস শুরু করেছে। একদিন বাসে করে যাওয়ার সময় জ্যামে আটকা পড়ে সে পাশের দামী গাড়ির দিকে তাকাল। দেখল আবির বসে আছে। পাশে এক সুন্দরী তরুণী, সম্ভবত তার নতুন স্ত্রী বা বাগদত্তা।
আবিরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সুখী আর শান্ত লাগছে। আবির একবারও জানালার বাইরে তাকাল না। মেঘনা নিজের চোখের জল আড়াল করার জন্য মুখ ঘুরিয়ে নিল। সে জানল, আবির তাকে ক্ষমা করেছে কি না সে জানে না, কিন্তু আবির তাকে ভুলে গেছে। আর ভুলে যাওয়াই হলো সবচেয়ে বড় শাস্তি।
মেঘনা জানালার পর্দাটা টেনে দিল। বাইরে আকাশটা এখন পরিষ্কার। সে নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। পাপের বিনাশ হয়েছে, আর অনুতাপের আগুনে পুড়ে মেঘনা এখন এক নতুন মানুষ। সে এখন আর কারো জন্য অপেক্ষা করে না, বরং নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে থাকে।
সেদিন বিকেলে সে পার্কে বসে দেখছিল এক দম্পতি ঝগড়া করছে। মেয়েটি রাগে হনহন করে চলে যাচ্ছে। মেঘনার খুব ইচ্ছে হলো মেয়েটিকে গিয়ে বলতে— "একটু থামো। রাগ আর একঘেয়েমি থেকে নেওয়া একটা ভুল সিদ্ধান্ত তোমার পুরো পৃথিবীটা ওলটপালট করে দিতে পারে।"
মেঘনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকাল। রোদটা এখন আর ধূসর নয়, বরং অনেকটা উজ্জ্বল। সে নিজের ভুলের মাশুল দিয়েছে, কিন্তু আজ সে অন্তত নিজের কাছে সৎ।